আনচেলত্তির কৌশলেই জাপান বাধা পেরোল ব্রাজিল
- by Maria Sultana
- June 30, 2026
- 5 views
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ বত্রিশের ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। তবে জয়টা সহজে আসেনি। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে হাজিমে মোরিয়াসুর কৌশলের সামনে বেশ ভুগতে হয়েছে সেলেসাওদের। বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়েই ছিল জাপান। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত পরিবর্তন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
প্রথমার্ধে জাপানের কৌশলে আটকে যায় ব্রাজিল
হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আগের দুই ম্যাচে আনচেলত্তির পরিকল্পনা ছিল মাঝমাঠ দিয়ে ভার্টিক্যাল ফুটবল খেলে হাফ-স্পেস ব্যবহার করে উইঙ্গারদের গতি কাজে লাগানো। কিন্তু জাপান ৫-৪-১ ও ৫-৩-২ ফরমেশনের সমন্বয়ে কম্প্যাক্ট রক্ষণ সাজিয়ে ব্রাজিলের মাঝমাঠের পথ কার্যত বন্ধ করে দেয়।
ফলে আক্রমণ গড়ে তোলার দায়িত্ব চলে আসে দুই ফুলব্যাক দানিলো ও ডগলাস সান্তোসের ওপর। তবে সেটি তাদের জন্য সহজ ছিল না, কারণ দুজনেরই শক্তিশালী পা ছিল ভেতরের দিকে। বল পেলেই তারা ইনসাইডে কাট করতে চাইছিলেন। কিন্তু জাপানের শক্ত মিড ব্লকের কারণে উইং থেকে কার্যকর কোনো ক্রস তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল না।
কুলিং ব্রেকের পর জাপান আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ৩-৪-৩ ফরমেশনে উচ্চ প্রেসিং শুরু করে তারা একসঙ্গে ব্রাজিলের সেন্টারব্যাক, ফুলব্যাক ও হোল্ডিং মিডফিল্ডারদের চাপে ফেলে দেয়। ফলে ব্রাজিলের বিল্ড-আপ খেলাই কঠিন হয়ে পড়ে। এই চাপ থেকেই আসে জাপানের গোল। দানিলোর ভুল পাস এবং কাসেমিরোর রক্ষণাত্মক অবস্থানের ভুল কাজে লাগিয়ে কাইশু সানো দারুণ এক ফিনিশে জাপানকে এগিয়ে দেন।
বিরতিতে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন আনচেলত্তি
প্রথমার্ধ শেষে লুকাস পাকেতা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে সেই পরিস্থিতিকেই কাজে লাগান কার্লো আনচেলত্তি। পাকেতার পরিবর্তে এন্দ্রিককে নামিয়ে তাকে মূল সেন্টার-ফরোয়ার্ডের ভূমিকায় খেলান। অন্যদিকে মাথেউস কুনিয়াকে আরও পেছনে নামিয়ে মিডফিল্ডে দায়িত্ব দেন। এর আগে গ্রুপ পর্বে মরক্কোর বিপক্ষেও একই কৌশল ব্যবহার করেছিলেন ব্রাজিল কোচ।
ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি জানান, এটি ছিল পরিকল্পিত কৌশলগত পরিবর্তন। বিরতির সময় তিনি খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরে নিজেদের কাঠামো বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তার বিশ্বাস ছিল, শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারলে গোলের সুযোগ আসবেই।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল ওয়াইড এরিয়া বেশি ব্যবহার করতে শুরু করে এবং উইং থেকে আরও কার্যকর ক্রস তুলতে সক্ষম হয়। সেই ক্রস থেকেই আসে সমতাসূচক গোল। একই সঙ্গে প্রান্তভাগের আক্রমণের কারণে মাঝমাঠ দিয়েও জায়গা তৈরি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের জয়সূচক গোলটিও আসে সেই কৌশলের সফল বাস্তবায়নের ফল হিসেবে।

