হাবলের চোখে ধরা পড়ল ‘ব্যর্থ ছায়াপথ’ ক্লাউড-৯
- by Maria Sultana
- January 9, 2026
- 47 views
ছবি: সংগৃহীত
নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপের সাহায্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বে এক ধরনের অস্বাভাবিক ও নতুন বস্তু শনাক্ত করেছেন, যাকে বৈজ্ঞানিকভাবে ‘ব্যর্থ ছায়াপথ’ বলা হচ্ছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই বস্তুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্লাউড-৯’।
সাধারণ ছায়াপথে যেখানে কোটি কোটি তারা থাকে, সেখানে এই বস্তুটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তারার উপস্থিতি নেই। গবেষকদের ধারণা, এটি মূলত ডার্ক ম্যাটার দিয়ে গঠিত এক বিশাল মেঘের মতো কাঠামো। ফলে মহাবিশ্বের প্রাথমিক গঠনপ্রক্রিয়া এবং ডার্ক ম্যাটারের রহস্য উন্মোচনে এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
মিলানো-বিকোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক আলেজান্দ্রো বেনিতেজ-ল্যাম্বা এটিকে ‘ব্যর্থ ছায়াপথের গল্প’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, এই বস্তুটির একটি পূর্ণাঙ্গ ছায়াপথে পরিণত হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। তারার অনুপস্থিতি বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের তাত্ত্বিক ধারণাকে বাস্তব প্রমাণের সুযোগ এনে দিয়েছে।
এই বস্তুটিকে ‘রিয়ায়নাইজেশন-লিমিটেড এইচআই ক্লাউড’ বা সংক্ষেপে ‘রেলহিক’ নামেও চিহ্নিত করা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, এটি মহাবিশ্বের শুরুর দিকে ছায়াপথ গঠনের সময় থেকে রয়ে যাওয়া এক ধরনের আদিম ও পরিত্যক্ত অবশিষ্ট কাঠামো। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA)-এর গবেষকরা জানিয়েছেন, ক্লাউড-৯ মহাবিশ্বের অদৃশ্য অংশ পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে এক বিরল সুযোগ তৈরি করেছে। কারণ মহাবিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ উপাদানই ডার্ক ম্যাটার, যা সাধারণ টেলিস্কোপে দেখা যায় না। ক্লাউড-৯-এ কোনো তারার আলো না থাকায় গবেষকরা সরাসরি ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন।
এই আবিষ্কারের ফলে ভবিষ্যতে আরও অনেক ‘ব্যর্থ ছায়াপথ’ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, পার্শ্ববর্তী ছায়াপথগুলোর আশপাশে এমন আরও অসম্পূর্ণ কাঠামো থাকতে পারে, যা মহাবিশ্বের বিবর্তন বুঝতে সহায়ক হবে। যদিও আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে ডার্ক ম্যাটার শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন, তবুও ক্লাউড-৯ সেই অজানা জগতের রহস্য জানার এক বিশেষ সুযোগ এনে দিয়েছে।

