জাতীয় সংহতি জোরদারে গবেষণা ইনস্টিটিউট গঠনের প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংহতি একটি দেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি বলে মন্তব্য করা হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, অঞ্চল ও মতাদর্শের পার্থক্য ভুলে জাতীয় স্বার্থে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান—সব ক্ষেত্রেই জাতীয় সংহতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়।

প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছে। এই বহুত্ববাদী ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করতে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও নীতিনির্ধারণভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই দেশে একটি জাতীয় সংহতি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এতে মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল ইউনিটি অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর উদাহরণ তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, নীতিগত সহায়তা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। পাশাপাশি সামাজিক সংঘাতের কারণ বিশ্লেষণ, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সরকারকে গবেষণাভিত্তিক পরামর্শ দিয়ে থাকে।

লেখকের মতে, বাংলাদেশের সামনে এখন স্থিতিশীল গণতন্ত্র ও টেকসই উন্নয়নের নতুন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাই জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে মালয়েশিয়ার আদলে একটি জাতীয় সংহতি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। এটি জাতীয় ঐক্য জোরদার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Related Articles