বিশ্বে নতুন করে ১৩ লাখ মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত
- by Maria Sultana
- December 2, 2025
- 98 views
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে ২০২৪ সালে নতুন করে ১৩ লাখ মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে সোমবার (১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, বৈশ্বিক এইডস প্রতিরোধ এখন ‘সংকটপূর্ণ ক্রান্তিকাল’ অতিক্রম করছে।
ডব্লিউএইচও জানায়, নতুন সংক্রমণের বড় অংশই ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে। সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, “আমরা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে গেছে, প্রতিরোধ কার্যক্রম স্থবির। তবে নতুন সুরক্ষামূলক প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি।”
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত ছিল এবং ওই বছর ৬ লাখ ৩০ হাজার মানুষ এইচআইভি–সম্পর্কিত কারণে মারা গেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে—হ্রাস পাওয়া আন্তর্জাতিক অর্থায়নের কারণে অনেক দেশের প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এইডস ভ্যাকসিন অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন জানায়, শুধু আন্তর্জাতিক দাতাদের অর্থ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই ২০২৪ সালে প্রি-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস (PrEP) ব্যবহারকারী প্রায় ২৫ লাখ মানুষ সেবাটি হারাবে।
তবে সংকটের মধ্যেও ২০২৫ সালে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। ডব্লিউএইচও অনুমোদন দিয়েছে নতুন প্রি–এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস ওষুধ লেনাকাপাভিরকে, যা বছরে মাত্র দুইবার ইনজেকশন হিসেবে নিতে হয়। দৈনিক ওষুধ সেবন বা স্বাস্থ্যসেবায় যেতে সামাজিক কলঙ্ক যাদের জন্য বাধা, তাদের জন্য এটি ‘রূপান্তরমূলক উদ্ভাবন’ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর ওষুধটি প্রি-কোয়ালিফাই হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং জাম্বিয়ায় দ্রুত অনুমোদন পাওয়ার পথ খুলে যায়।
ডব্লিউএইচওর এইচআইভি, টিবি, হেপাটাইটিস ও যৌন সংক্রমণবিষয়ক বিভাগের পরিচালক ড. তেরেজা কাসায়েভা বলেন, “আমরা এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসার নতুন এক যুগে প্রবেশ করছি। কিন্তু জরুরি বিনিয়োগ ছাড়া লাখ লাখ মানুষ এই অগ্রগতি থেকে বঞ্চিত হবে।”
ডব্লিউএইচও সকল সরকারকে এইচআইভি সেবা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় একীভূত করা, স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বর্তমান ব্যাঘাত সত্ত্বেও ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোর দৃঢ় সংকল্পই বিশ্বকে এইডস নির্মূলের পথে এগিয়ে রাখছে।

