হাসনাত-সারজিসের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কথা জানালেন সমন্বয়ক কাদের

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় আন্দোলনের সমন্বয় কঠিন হয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৯ দফা ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এই শিক্ষার্থী জানান, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কর্মসূচি ঘোষণা এবং নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের সঙ্গে সেই সময়কার দ্বন্দ্বের বিষয়টি তুলে ধরেন।

আব্দুল কাদের বলেন, ১ আগস্ট ডিবি কার্যালয় থেকে মুক্ত হওয়ার পর আসিফ মাহমুদ তাকে ফোন করে সতর্ক থাকতে বলেন এবং আলোচনার বাইরে কোনো কর্মসূচি না দিতে অনুরোধ করেন। তবে বাইরে পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় তিনি ২ আগস্ট দোয়া-মোনাজাত, প্রার্থনা ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ঘোষণা করেন।

তার দাবি, এ কর্মসূচির বিরোধিতা করেন সারজিস আলম। তিনি গ্রুপে কাদেরের ঘোষণাকে ‘ব্যক্তিগত কর্মসূচি’ উল্লেখ করে বার্তা দেন এবং কাদেরকে গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেন। পরে সমন্বয়ক আবদুল্লাহ সালেহীন অয়নের মাধ্যমে কাদের আবার গ্রুপে যুক্ত হন এবং নিজের কর্মসূচি পুনরায় প্রকাশ করেন। একই সময়ে সারজিসকে গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

কাদেরের ভাষ্য, আসিফ মাহমুদ কর্মসূচি ঘোষণার আগে আলোচনা না করার বিষয়ে আপত্তি তুললেও তিনি মনে করেন, তিনি ভুল কিছু করেননি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সে সময় হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে চলে যাচ্ছে। তাদের ভাষায়, ‘কাদেরকে থামাও।’

তিনি জানান, পরে ডাকসুর বর্তমান ভিপি সাদিক কায়েমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এরপর সিদ্ধান্ত হয়, ২ আগস্ট জুমার নামাজের পর অনলাইনে বৈঠকে বসে বিষয়টি আলোচনা করা হবে।

ওই বৈঠকে হাসিব আল ইসলামও আন্দোলন চালিয়ে না যাওয়ার পক্ষে মত দেন। তার মতে, মানুষের মৃত্যু বাড়ছে এবং এর দায় আন্দোলনের নেতৃত্বের ওপর পড়ছে। এ সময় কাদের বলেন, আন্দোলন কে করবে বা করবে না, সেটি আলাদা বিষয়; তবে কেউ যেন আন্দোলনে নাশকতা না করে।

বৈঠকে আসিফ মাহমুদ অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে আব্দুল কাদের পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এক দফা দাবিতে যাওয়ার প্রস্তাব করেন। তার মতে, আন্দোলন তখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল।

তিনি আরও জানান, ২ আগস্ট ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় বড় মিছিল হলেও ঢাকায় কর্মসূচি ছোট পরিসরে হয়। কারণ, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কারা দায়িত্ব পালন করবে, সেই সমন্বয় তখন আর করা সম্ভব হয়নি। এর আগে আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে এলাকা ভাগ করে সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসূচি পরিচালিত হতো। সূত্র: যুগান্তর/ স/হ/ন ১৬/০৭/২০২৬

Related Articles