কাবা চত্বরে উম্মে জামিলের অন্ধ হয়ে যাওয়ার আশ্চর্য ঘটনা
- by Maria Sultana
- December 20, 2025
- 2 views
ছবি: সংগৃহীত
নবীজির (সা.) সঙ্গে বিদ্বেষপোষণকারী নারীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রথমসারিতে যার নাম সে হলো উম্মে জামিল। সে কতই না নিকৃষ্ট ছিল! তার কথা ও কাজে এর প্রমাণ মেলে। তার একটি হলো— উম্মে জামিলের অপমান ও আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর সুরক্ষা।
আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল ছিল ঘোরতর বিদ্বেষপরায়ণ ও কৃপণ স্বভাবের নারী। তার এই নোংরা মানসিকতার কারণেই আল্লাহ তাআলা তাকে নিয়ে সুরা নাজিল করলেন এবং এ সুরায় তাকে— ‘হাম্মালাতাল হাতাব’ অর্থাৎ লাকড়ি বহনকারিণী—উপাধিতে চিহ্নিত করেছেন। কৃপণতার বশে সে নিজ হাতে জঙ্গল থেকে কাঁটাযুক্ত ডাল ও শুকনো লাকড়ি কুড়িয়ে আনত এবং সেগুলো নিজের কাঁধে বয়ে নিয়ে এসে রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর চলার পথে ও ঘরের সামনে বিছিয়ে দিত, যাতে নবীজি (সা.) কষ্ট পান। শুধু তাই নয়, সে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে নবীজির (সা.) বিরুদ্ধে কুৎসা রটাত এবং ফিতনা ছড়াতে ব্যস্ত থাকত।
যখন সুরা লাহাব নাজিল হয় এবং লোকেরা তাকে— ‘হাম্মালাতাল হাতাব অর্থাৎ লাকড়ি বহনকারিণী’ নামে ডাকতে শুরু করল, তখন উম্মে জামিল ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে উঠল। ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে সে একটি পাথর হাতে নিয়ে কাবার দিকে ছুটে গেল। তার একটাই লক্ষ্য— রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর মাথায় সেই পাথর নিক্ষেপ করা। পথিমধ্যে তার মুখ থেকে অশ্রাব্য ও কুরুচিপূর্ণ গালি বের হচ্ছিল।
সেই সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) কাবা শরিফের প্রাঙ্গণে হজরত আবু বকর (রা.)–এর পাশে শান্তভাবে বসে ছিলেন। উম্মে জামিল যখন সেখানে এসে পৌঁছল, আল্লাহ তাআলা নিজ কুদরতে নবীজিকে (সা.) তার দৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ আড়াল করে দিলেন। সে কেবল হজরত আবু বকরকেই (রা.) দেখতে পেল, অথচ নবীজি (সা.) ঠিক তার সামনেই থাকা সত্ত্বেও তার চোখে ধরা পড়লেন না।
উম্মে জামিল ক্ষিপ্ত কণ্ঠে আবু বকরকে (রা.) বলল—
‘হে আবু বকর! তোমার সেই সঙ্গী কোথায়? শুনেছি সে আমাকে নিয়ে কবিতা বানিয়েছে! তাকে পেলে এই পাথর দিয়েই তার মাথা গুঁড়িয়ে দেব।’ বিদ্রূপ করে সে রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর নামও বিকৃত করল। ‘মুহাম্মদ’ না বলে সে বলছিল ‘মুজাম্মাম’, অর্থাৎ নিন্দিত ব্যক্তি।
এ দৃশ্য দেখে হজরত আবু বকর (রা.) বিস্ময়ে নীরব রইলেন। তিনি ভাবছিলেন— নারীটি তো নবীজির (সা.) একেবারে সামনে দাঁড়িয়ে আছে, অথচ তাকে একেবারেই দেখতে পাচ্ছে না!
উম্মে জামিল অহংকারের সঙ্গে ঘোষণা করল—
‘আমি বনু আবদে শামস গোত্রের সর্দারের কন্যা! আমার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলবে? লাত ও উজ্জার কসম, আমি তাকে ছাড়ব না।’
তখন হজরত আবু বকর (রা.) শান্তভাবে জিজ্ঞাসা করলেন— ‘তুমি কি আমার পাশে কাউকে দেখতে পাচ্ছ?’
সে ধমকের সুরে বলল—
‘তুমি কি আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছ? এখানে তো আমি কাউকেই দেখছি না!’
এরপর সে একটি ব্যঙ্গাত্মক কবিতা আবৃত্তি করে বলল— ‘মুজাম্মামকে আমরা মানি না, তার ধর্মকে ঘৃণা করি এবং তার আদেশ অমান্য করি।’ এই কথা বলে সে দম্ভভরে সেখান থেকে চলে গেল।’
সে চলে যাওয়ার পর হজরত আবু বকর (রা.) বিস্ময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বললেন— ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক— সে কি আপনাকে একবারও দেখল না?’
নবীজি (সা.) হালকা হাসলেন এবং বললেন— ‘না আবু বকর। আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিয়েছিলেন। সে যখন কাছে এসেছিল, তখন জিবরাইল (আ.) এসে তার ও আমার মাঝখানে নিজের ডানা দিয়ে পর্দা সৃষ্টি করেছিলেন। তাই সে আমাকে দেখতে পায়নি।’
এরপর নবীজি (সা.) আরও বললেন— ‘তুমি কি খেয়াল করনি— সে আমাকে কোন নামে ডাকছিল? সে বলছিল ‘মুজাম্মাম’— নিন্দিত। অথচ আমি তো ‘মুহাম্মদ’— প্রশংসিত। আল্লাহ শুধু আমাকে তার হাত থেকেই নয়, তার মুখ থেকেও রক্ষা করেছেন; সে আমার প্রকৃত নাম উচ্চারণ করতেও সক্ষম হয়নি।’
সূত্র: আস-সীরাতুন নববিয়্যাহ, সীরাতে ইবনে হিশাম

