ব্রাজিলকে চাপে ফেলতে পারে জাপানের যে ৫ শক্তি
- by Maria Sultana
- June 29, 2026
- 2 views
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল জাপান। ক্যালিফোর্নিয়ার ঐতিহ্যবাহী রোজ বোল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। নকআউট পর্বে হার মানেই বিদায়, তাই সম্ভাব্য সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
পরিসংখ্যান, ফিফা র্যাঙ্কিং ও অতীতের রেকর্ড ব্রাজিলের পক্ষেই থাকলেও, সবশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ে জাপানের জয় ম্যাচটিকে বাড়তি আকর্ষণ এনে দিয়েছে। ফলে আজকের নকআউট লড়াইয়ে জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েকটি কারণে ব্রাজিলের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে জাপান।
১. হাজিমে মোরিয়াসুর ‘জায়ান্ট কিলিং’ কৌশল ও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক
বর্তমান জাপান দলের সফলতার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর। তার কৌশল অনুযায়ী, বলের দখল কম রেখেও দ্রুত প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করে জাপান। পরিসংখ্যানও বলছে, এই পরিকল্পনায় তারা দারুণ সফল। সর্বশেষ বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারানোর ম্যাচে জাপানের বল দখলের হার ছিল যথাক্রমে মাত্র ২৬ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ। কম পজেশন নিয়েও শক্তিশালী ডিফেন্সিভ ব্লক এবং দ্রুতগতির উইং আক্রমণের মাধ্যমে ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে আনার সামর্থ্য মোরিয়াসুর দল একাধিকবার দেখিয়েছে।
২. ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়
একসময় জাপানের বেশিরভাগ ফুটবলার ঘরোয়া জে-লিগে খেললেও বর্তমান চিত্র ভিন্ন। এখন জাতীয় দলের প্রায় ৮০ শতাংশ খেলোয়াড় ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলছেন এবং নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে আলো ছড়াচ্ছেন। রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে তাকেফুসা কুবো, মোনাকোর হয়ে তাকুমি মিনামিনো এবং স্টুটগার্টের হয়ে রিতসু দোয়ান নিয়মিত খেলছেন। ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে খেলার কারণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের মতো ব্রাজিলিয়ান তারকাদের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কেও ভালো ধারণা রয়েছে তাদের।
৩. এনদো-তানাকার নিরবচ্ছিন্ন প্রেসিং
জাপানের মাঝমাঠের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় লিভারপুলের ওয়াতারু এনদো এবং ডুসেলডর্ফের আও তানাকা। ফিফার ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ম্যাচে তারা প্রত্যেকে ৯০ মিনিটে গড়ে প্রায় ১১.৮ কিলোমিটার দৌড়ান। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের উচ্চগতির প্রেসিং ব্রাজিলের মিডফিল্ডকে খুব বেশি সময় দেবে না। মাঝমাঠে এই ধারাবাহিক চাপ ব্রাজিলের বিল্ড-আপ প্লেতে শুরু থেকেই ভুলের কারণ হতে পারে।
৪. সেট-পিস ও এরিয়াল বলে দারুণ কার্যকারিতা
বর্তমান ফুটবলে অনেক ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে সেট-পিস। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাপানের শেষ ১০টি আন্তর্জাতিক গোলের ৩১ শতাংশ এসেছে কর্নার, ফ্রি-কিক বা ডেড-বল পরিস্থিতি থেকে। জুনিয়া ইতো ও তাকেফুসা কুবোর নিখুঁত ক্রসের সঙ্গে বক্সে কো ইতাকুরা ও হিরোকি ইতোর মতো দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের হেডিং দক্ষতা তাদের বড় শক্তি। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলের অন্যতম দুর্বলতা সেট-পিস ও ক্রস থেকে গোল হজম করা। রোজ বোলের বড় মাঠে এই দিকটি আজ জাপানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।
৫. তারকানির্ভর নয়, দলগত ফুটবলে বিশ্বাস
জাপানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত সমন্বয়। গত এক বছরে তাদের গোলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোনো নির্দিষ্ট এক বা দুইজন স্ট্রাইকারের ওপর তারা নির্ভরশীল নয়। ডিফেন্ডার থেকে শুরু করে বদলি হিসেবে নামা উইঙ্গার—সবাই গোল করার সামর্থ্য রাখেন। স্কোয়াডে কোনো একক সুপারস্টার না থাকায় ব্রাজিলের জন্য নির্দিষ্ট একজন খেলোয়াড়কে ম্যান-মার্ক করার পরিকল্পনাও খুব বেশি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

