তীব্র শীতে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রাম, বাড়ছে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ

ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামে টানা কয়েক দিনের তীব্র শীত ও ঠান্ডায় স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত হিমেল বাতাসের প্রভাবে মানুষের কাঁপুনি থামছে না। গত কয়েক দিন ধরে মাঝে মধ্যে সূর্যের দেখা মিললেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। এর ফলে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রা সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দুর্দশা বেড়েছে কয়েক গুণ।

রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের বাসিন্দা রুবেল মিয়া জানান, প্রচণ্ড শীতের কারণে সকালে রিকশা নিয়ে কাজে বের হতে পারেননি তিনি। কাজ না থাকায় সংসারে টাকার সংকট লেগেই আছে বলে জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বাবু মিয়া বলেন, তিনি বিল ও নদীতে মাছ ধরে সংসার চালান। কিন্তু শীতের কারণে গত কয়েক দিন ধরে ঠিকভাবে মাছ ধরতে পারছেন না। এতে পরিবার চালানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগার চরের বাসিন্দা মিন্টু মিয়া বলেন, ঠান্ডার তীব্রতায় তারা ঘর থেকে বাইরে বের হতে পারছেন না। ফলে স্বাভাবিক কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।

একই এলাকার বাসিন্দা রহমত বলেন, কাজ না করলে তাদের পেটে ভাত জোটে না। কিন্তু কাজে গেলে ঠান্ডায় হাত-পা জ্বালা করে এবং ঠিকমতো কাজ করা সম্ভব হয় না। রাতেও ঘুম ঠিকভাবে হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খায়রুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে তার ছেলের কয়েক দিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, জেলায় শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। জেলার নয়টি উপজেলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখার কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, জেলার নয়টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Related Articles