লন্ডনে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে তারেক রহমান: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশে ফেরার ঘোষণা

তারেক রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়নে যুক্তরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান জানান, প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানের পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন। এ সময় তিনি দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বিমানবন্দরে বিদায় জানাতে গিয়ে ভিড় না করতে। কারণ এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি কোনো স্বপ্ননির্ভর রাজনীতি করছে না; বরং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি যুক্তরাজ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বিএনপির প্রবাসী নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চিকিৎসার প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যে আসার পর থেকে প্রবাসী নেতা-কর্মীরা তাকে নিরন্তর সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়ে আসছেন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই গণতান্ত্রিক চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, তার নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে আসে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতান্ত্রিক আলোচনা শুরু হয়। পাশাপাশি ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ কাটিয়ে উৎপাদনমুখী অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ অগ্রসর হয়।

তারেক রহমান বলেন, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ হয়, শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড ছিল দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতনের পর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করে। সে সময় শিল্পায়ন, গার্মেন্টস খাত, প্রবাসী রেমিট্যান্স, নারী শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয় বলে তিনি দাবি করেন।

গত ১৬ বছরে ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপির লাখো নেতা-কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, হাজারো নেতা-কর্মী গুম ও নিহত হয়েছেন এবং অনেকেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট গণআন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে, যা কোনো একক দলের নয়—বরং জনগণের সম্মিলিত বিজয়। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে আসায় ফ্যাসিবাদী শাসন টিকে থাকতে পারেনি।

তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, ষড়যন্ত্র এখনও থেমে নেই। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নির্ভীক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করবে। এ সময় তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, কৃষি, কর্মসংস্থান, নারী উন্নয়নসহ বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

Related Articles