শিশুর সুস্থতার জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচীতে টিকা জরুরি

ছবি: সংগৃহীত

শিশুর জন্মের পর তার সুস্থতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী টিকা দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টিকা শিশুকে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

বছর কয়েক আগেও শিশুকে জন্মের পর চারবার টিকাদান করলেই হতো; এখন সরকারি টিকাদান কর্মসূচিতে নতুন টিকা যুক্ত হয়ে মোট ছয়বার টিকা নিতে হয়। নতুন যুক্ত হয়েছে নিউমোনিয়ার টিকা (পিসিভি), হাম ও রুবেলার টিকা (এমআর) এবং পোলিওর ইনজেকশন টিকা (আইপিভি)।

শিশুর টিকা দেওয়ার নিয়ম:

  • জন্মের সময়: জন্মের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাচ্চাকে বিসিজি, হেপাটাইটিস বি এবং পোলিও টিকা দেওয়া হয়।

  • নির্দিষ্ট বয়সে টিকা: জন্মের ৬ সপ্তাহ থেকে ১৮ মাস বয়স পর্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে ডিপথেরিয়া, কক্লাস, টিটেনাস, হাম-রুবেলা, নিউমোনিয়া ও মেনিনজাইটিসের টিকা দেওয়া হয়।

  • বুস্টার ডোজ: কিছু টিকার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সে পুনরায় বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়, যা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখে।

মিস হওয়া টিকা ও করণীয়:
টিকা দিতে ভুলে গেলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী করণীয় জানা উচিত। ক্যাচ-আপ ডোজের মাধ্যমে মিস হওয়া টিকার ঘাটতি পূরণ করা যায়। এছাড়া টিকাদানের রেকর্ড সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়সূচী অনুযায়ী টিকা দেওয়াও জরুরি।

শিশুর জন্য জরুরি ছয়টি টিকা ও সময়সূচী:
১. বিসিজি (BCG): জন্মের পর বা এক সপ্তাহের মধ্যে
২. হেপাটাইটিস বি (Hepatitis B): জন্মের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
৩. ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (OPV): জন্মের পর, ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে
৪. ডিপথেরিয়া, কক্লাস ও টিটেনাস (DPT): ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে
৫. হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি (HiB): ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে
৬. হাম-রুবেলা (MR): ৯ মাস ও ১৫ মাসে

শিশুর প্রথম দুই বছরে মোট ১১টি মূল টিকা নেওয়া হয়, যা বিসিজি, হেপাটাইটিস বি, যক্ষ্মা, হুপিংকাশি, হাম, পোলিও-মাইটিস, ডিপথেরিয়া, কক্লাস, টিটেনাস, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি এবং হাম-রুবেলার অন্তর্ভুক্ত। এই টিকাগুলো সময়মতো নেওয়া শিশুর দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

Related Articles